/*----- Disable Text Selection with CSS Code--- Esobondhu----*/ body { -webkit-user-select: none; -moz-user-select: -moz-none; -ms-user-select: none; user-select: none; }

স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি পুনাজ্ঞ সাইট

Saturday, April 28, 2018

রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা


বিশ্বে প্রায় ৫০ মিলিয়নের বেশি ডায়াবেটিস রোগী প্রতিবছর রমজান মাসে রোজা করে থাকেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বছরে এই এক মাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপোস করা একটি পবিত্র আবশ্যিক কাজ। কিন্তু নতুন পুরাতন ডায়াবেটিস রোগীরা এই রোজা পালন করতে গিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সম্মুখীন হন। যেমন_ এক. ডায়াবেটিস রোগীরা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারবেন কিনা, দুই. রোজার দিনে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন কিভাবে দেয়া যাবে, তিন. রোজার সময় গ্লুকোমিটার যন্ত্র দিয়ে রক্তের শর্করা মাপলে রোজা ভেঙে যাবে কিনা, চার, রোজা রেখে ব্যায়াম করা যাবে কিনা ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ওঠে এই সময়। আজ আমরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।


রমজানে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ। আর এ ফরজ কাজটি করতে গিয়েই বেশ অসুবিধায় পড়ে যান ডায়াবেটিস রোগীরা। কারণ এ সময় খাদ্যাভাস ও ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তনে তাদের শরীরের ক্যালরি এবং ওষুধের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা দেখা দেয়।


 
এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে আবার কমে যেতে পারে। তাই রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য ডায়াবেটিসের রোগীদের দরকার পূর্ব-প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ।



রমজান মাসে আপনার ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। কেবল খাদ্য উপাদান ও সময় পরিবর্তিত হতে পারে। এ সময় পানিশূন্যতার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত পানি, লেবুপানি, ডাবের পানি ও অন্যান্য চিনিবিহীন পানীয় গ্রহণ করে দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে। ইফতারে একসঙ্গে অনেক না খেয়ে ধাপে ধাপে ভাগ করে খাবার খান। এতে হঠাত্ রক্তে শর্করা বাড়ার প্রবণতা কম হবে। সহজ শর্করা যেমন শরবত, মিষ্টি, জিলাপি ইত্যাদির পরিবর্তে জটিল শর্করা যেমন গম, চাল, ভুট্টা ও ডালের তৈরি খাবার বেছে নিন। প্রচুর তেল ও চর্বিযুক্ত ভাজা-পোড়া খাবার যেমন সমুচা, শিঙাড়া, কাবাব ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে আঁশযুক্ত খাবার যেমন কাঁচা ছোলা, কম তেল দিয়ে ছোলা ভাজা বা ছোলা, মটর বা ডাবরি তৈরি খাবার, চটপটি, চিড়া-দই, মুড়ি ও সালাদ খেতে পারেন। ইফতারে বা তার পর একটি বা দুটি ফল খেতে পারেন। সেহির অবশ্যই খেতে হবে এবং তা যথাসম্ভব দেরি করে খাবেন। সেহিরতে জটিল শর্করা বেশি রাখবেন। রোজা রেখে দিনের বেলায় ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি না করাই ভালো।


রমজান মাসে স্বামী স্ত্রীর মিলন সংক্রান্ত ৬টি মাস্‌য়ালা রোজায় ওষুধ ও ইনসুলিন

রোজায় খাবারের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিনের সময় ও মাত্রা অবশ্যই পরিবর্তিত হবে। সহজভাবে সকালের ওষুধ বা ইনসুলিন পূর্ণ মাত্রায় সন্ধ্যাবেলা ও রাতের ওষুধ বা ইনসুলিন অর্ধেক মাত্রায় শেষ রাতে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তাই নিজে নিজে পরিবর্তন না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। রক্তে শর্করাস্বল্পতার আশঙ্কা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সালফোনিল ইউরিয়ার পরিবর্তে স্বল্পমাত্রার অন্য ওষুধ ও সাধারণ ইনসুলিনের পরিবর্তে আধুনিক অ্যানালগ ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন। বিপদকে চিনে নিন





গবেষণায় দেখা গেছে, রমজান মাসে টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে শর্করাস্বল্পতার ঝুঁকি প্রায় ৪ দশমিক ৭ ও ৭ দশমিক ৫ গুণ এবং শর্করার আধিক্যের ঝুঁকি ৩ ও ৫ গুণ বেড়ে যায়। রমজান মাসে গ্লুকোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তে শর্করা মাপলে রোজা ভাঙে না, তা ইসলামি চিন্তাবিদেরা আগেই রায় দিয়েছেন। তাই বিপদ এড়াতে দিনের বিভিন্ন সময় রক্তে শর্করা মাপুন। যদি দুপুর ১২টার আগেই বা দিনের যেকোনো সময় রক্তে শর্করা ৪ মিলিমোলের নিচে বা ১৬ দশমিক ৭ মিলিমোলের ওপরে থাকে, তবে বিপদ হতে পারে। তখন রোজা না রাখাই ভালো।


খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামে পরিবর্তন
রমজান মাসে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাবার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীরা একটি সুনিয়ন্ত্রিত ও সঠিক সময়সূচির খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাই তাদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বেলায় যে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য করা উচিত তা হলো


১. দৈনন্দিন ক্যালরির পরিমাপ আগের মতোই থাকবে, কেবল সময়সূচি বা উপাদান পরিবর্তিত হতে পারে।
২. শেষরাতে সেহরি খাওয়া আবশ্যিক ও তা গ্রহণ করতে হবে যথাসম্ভব দেরি করে। সেহরিতে জটিল শর্করাসহ সব ধরনের উপাদান রাখতে হবে কেননা এই খাবারই দিনভর শক্তি জোগাবে।
৩. ইফতারে একসঙ্গে প্রচুর খাবার না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। মিষ্টি জাতীয় ও ভাজা-পোড়া তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন। যেমন কাঁচা বা সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে শশা টমেটোর সালাদ, চিঁড়া-টকদই, ঘুগনি বা চটপটি, স্যুপ, ফল ইত্যাদি। শরবতের বদলে ডাবের পানি বা লেবুর পানি। একটি কি দুটি খেজুর খাওয়া যেতে পারে। 
৪. ইফতার ও সেহরির মধ্যে নৈশভোজে রুটি বা অল্প ভাত খাওয়া যেতে পারে।
Share:
Copyright © Bangla Labs | Powered by Blogger Design by ronangelo | Blogger Theme by NewBloggerThemes.com